সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গবাদি পশুর রোগ ও তার প্রতিকার

ক্ষুরা রোগ  ইহা সকল বয়সের গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়ার ভাইরাসজনিক একটি মারাত্মক অতি ছোঁয়াছে রোগ।  লক্ষণঃ  শরীরের তাপমাত্রা অতি বৃদ্ধি পায়। জিহ্বা, দাঁতের মাড়ি, সম্পূর্ণ মুখ গহ্বর, পায়ের ক্ষুরের মধ্যভাগে ঘা বা ক্ষত সুষ্টি হয়। ক্ষত সৃষ্টির ফলে মুখ থেকে লালা ঝরে, সাদা ফেনা বের হয়। কখনও বা ওলানে ফোসকার সৃষ্টি হয়। পশু খোঁড়াতে থাকে এবং মুখে ঘা বা ক্ষতের কারণে খেতে কষ্ট হয়। অল্প সময়ে পশু দূর্বল হয়ে পরে। এ রোগে গর্ভবর্তী গাভীর প্রায়ই গর্ভপাত ঘটে। দুধালো গাভীর দুধ উৎপাদন মারাত্মক ভাবে হ্রাস পায়। বয়স্ক গরুর মৃত্যুহার কম হলেও আক্রান্ত বাছুরকে টিকিয়ে রাখা কঠিন। 

মুরগির বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আধুনিক ও দেশীয় পদ্ধতি

মুরগি পালন লাভজনক হলেও বিভিন্ন প্রকার রোগ এ লাভের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবছর বিভিন্ন রোগের কারণে ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকা। তাছাড়াও রোগ নিরাময়, রোগ নির্ণয় করতে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ঔষধ আনতে হয়। মুরগির রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারলে তা নিরাময় করা সহজ হয়। কিন্তু এ রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রতিবছর বিদেশ থেকে আনা হয় বিভিন্ন কিট, যা অনেক ব্যয়বহুল। এসব দিক চিন্তা করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্যাথলজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক এমদাদুল হক চৌধুরী উদ্ভাবন করেছেন মুরগির দুটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ সালমোনেলোসিস ও মাইকোপস্নাজমসিস নির্ণয়ের দেশি প্রযুক্তির কিট। এগুলো ব্যবহার করে খুব কম সময়ে সহজে ও অতি অল্প খরচে নির্ভুলভাবে রোগ দুটি নির্ণয় করা সম্ভব। সালমোনেলোসিস মুরগির ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগে মুরগির মৃতু্যর হার বেশি এবং মুরগির ডিম ও মাংস উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সালমোনেলা গোত্রভুক্ত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বাংলাদেশে মূলত মুরগির হোয়াইট ব্যাসিলারি ডাইরিয়া বা পুলুরাম রোগ, ফাউল টা...

আধুনিক পদ্ধতিতে গোলআলু চাষ বীজ শোধন ও রোগ দমন

আধুনিক পদ্ধতিতে আলু উৎপাদন যে সব ফসলের কান্ড বা শিকড় শর্করা জমা হওয়ার কারণে মোটা হয়ে রূপান্তরিত বা পরিবর্তিত হয় সেগুলোকে কন্দাল ফসল বলে। বাংলাদেশে আলু, মিষ্টি আলু, কচু, গাছ আলু বা মেটে আলু, কাসাবা, শটি এসব কন্দাল ফসল হিসেবে চাষ করা হয়ে থাকে। বেশি শর্করা থাকার কারণে অনেক দেশেই এসব ফসল প্রধান খাদ্য বা প্রধান খাদ্যের পরিবর্তে বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। কন্দাল ফসল অন্যান্য প্রধান খাদ্য শস্য থেকে বেশি শক্তি ও আমিষ তৈরি করে থাকে। এ অধ্যায়ে আমরা জানব বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় কন্দাল ফসল আলু’র চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে। আলুর সাধারণ পরিচিতি: ০ ইংরেজি নাম: Potato ০ বৈজ্ঞানিক নাম: Solanum teberosum ০ পরিবার: Solanaceae ০ উৎপত্তি: অধিকাংশ বিজ্ঞানীগণ দক্ষিণ আমেরিকাকে আলুর উৎপত্তিস্থল হিসেবে বিবেচনা করেন। পুষ্টি মূল্য:  আলুতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ। পুষ্টির দিক দিয়ে বিবেচনা করলে ভাত ও গমের সাথে আলুকে তুলনা করা যায়। এছাড়া খাদ্য হিসাবে আলু সহজেই হজম হয়।  উপযুক্ত জমি ও মাটি:  আলু চাষের জন্য বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ ধরনের মাটি সবচেয়ে উপযোগী। লবণাক্...

ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র

ভূমিকাঃ আমাদের দেশের গবাদি পশুর প্রধান খাদ্য হল খড়। কিন্তু খড়ের পুষ্টিমান খুবই কম। তাই খড়ের পুষ্টিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনষ্টিটিউই দীর্ঘ গবেষণা ও কৃষক পর্যায়ে যাচাই করে দেশে প্রাপ্ত খড়, ইউরিয়া ও চিটাগুড়ের মিশ্রণে তৈরী করেছে ইউ, এম, এস, গো-খাদ্য প্রযুক্তিটি। এটি ইউ রিয়া, মোলাসেস এবং খড় (স্ট্র) এর একটি মিশ্রিত খাবার যা গরুকে প্রতিদিন শুকনা খড়ের পরিবর্তে চাহিদামস খাওয়ানো যায়। ইউ. এম. এস. তৈরীর পদ্ধতিঃ ইউ,এম,এস তৈরীর প্রথম শর্ত হল এ উপাদনগুলির অনুপাত সর্বদা সঠিক রাখতে হবে অর্থাৎ ১০০ ভাগ ইউ,এম, এস এর শুষ্ক পর্দাথের মধ্যে ৮২ ভাগ খড়, ১৫ ভাগ মোলাসেস এবং ৩ ভাগ ইউরিয়া থাকতে হবে। সহজ ভাষায় যতটুকু খড় মিশ্রিত করব তার অর্ধেক পরিমাণ পানি, পানির অর্ধেক পরিমাণ মোলাসেস/নালী/চিটা এবং প্রতি কেজি খড়ের জন্য ৩০ গ্রাম ইউরিয়া নিতে হবে যেমন ১০ কেজি খড়ের জন্য ৫ লিটার পানি, ২.৫ কেজি মোলাসেস এবং ৩০০ গ্রাম (১০x৩০গ্রাম) ইউরিয়া লাগবে। প্রথমে খড়, মোলাসেস ইউরিয়া পরিমান মেপে নিতে হবে। মোলাসেস ও ইউরিয়া ওজনের পর প্রয়োজন মত পরিস্কার পানিতে এমনভাবে মিশাতে হবে যাতে সম্প...

নামাজ কেন পড়বেন কিভাবে পড়বেন ? না পড়ার শাস্তি

নামাজ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ইবাদত। দৈনন্দিন নামাজ না পড়লে মুসলমান হিসেবে থাকা সম্ভব না। নামাজকে সেজন্য বেহেস্তের চাবিকাঠি বলা হয়। নামাজ পড়ার ব্যাপারে কয়েকটি কোরান-হাদিসের বানী: ১) “আবু হুরাইরা (রাদি আল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- যখন আদম সন্তান সিজদার আয়াত পাঠ করে, অতঃপর সিজদা করে তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে একপাশে সরে দাঁড়ায় এবং বলতে থাকে, হায় আমার পোড়া কপাল, আদম সন্তানকে সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হলো সে সিজদা করলো। ফলে তার জন্য জান্নাত, আর আমাকেও সিজদার নির্দেশ করা হয়েছিল কিন্তু আমি অস্বীকার করেছিলাম, তাই আমার জন্য জাহান্নাম।” (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান অধ্যায়) ২) “আবু যুবাইর (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদি আল্লাহু তাআলা আনহু) কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝখানে নামায বর্জন করাই হচ্ছে ব্যবধান।”*** (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান অধ্যায়) ৩) আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিঃসন্দেহে নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে”। (সূরা আল ...

ইসলাম ও গণতন্ত্র

ভূমিকা 'গণতন্ত্র' একটি অতি পরিচিত রাজনৈতিক মতবাদ। এর চিন্তাধারা ও ঐতিহ্য সূপ্রাচীন। প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে অদ্যবধি পর্যন্ত গণতন্ত্র বিভিন্ন যুগে বিচিত্রভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে। গণতন্ত্রের সুবিধা আর অসুবিধা নিয়ে আছে যথেষ্ট আলোচনা-সমালোচনা। বেশিরভাগ মুসলমানরা যেখানে নিজের ধর্ম সম্পর্কে সচেতন না সেখানে ইসলাম ও গণতন্ত্রের মধ্যকার সম্পর্ক না জানা স্বাভাবিক। অনেকে তো গণতন্ত্রকে সরাসরি হারাম বলে ঘোষণা দিয়ে দেয়। নিচে আমি কুরআনের আলোকে ইসলাম ও গণতন্ত্রের মধ্যকার সম্পর্ক তুলে ধরছি। প্রথমেই বলে নিচ্ছি সকল মুসলমানকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, ইসলাম পূর্নাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থা (Al-Maaida:3)। অর্থাৎ এতে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। অতএব, নেতা নির্বাচন সম্পর্কে ও ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। গণতন্ত্রের সুবিধা ও অসুবিধাঃ সুবিধাসমূহঃ ১. সহিংসতা ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তন। ২. সংখ্যাগরিষ্ট জনগনের আশা আকাংখার প্রতিফলন। ৩. সরকার জনগণের মন রক্ষা ও বিরোধীদলের সমালোচনার জন্য সর্বাত্মক উন্নয়ন করে। ৪. জনগণ মত প্রকাশের সুযোগ পায়। অসুবিধাসমূহঃ ১. দেশের সকল মানুষ সচেতন না থ...

মুসলিম জীবনের আদব-কায়দা

লেখক:  ড. মো: আমিনুল ইসলাম   | সম্পাদনা:   ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে আদব-কায়দা’র পরিচয়, গুরুত্ব ও তাৎপর্য ১. আদব-কায়দা’র পরিচয়: আদব শব্দটি আরবি   ” أدب “ শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত শব্দ; যার অর্থ হলো: বিনয়, নম্রতা, ভদ্রতা, সভ্যতা, কৃষ্টি, সুশিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা, শোভনতা, শিষ্টাচার।[1] আবার   ” أدب “ শব্দের অর্থ: নিয়মনীতি, পদ্ধতি ইত্যাদি।  আর আদব-কায়দা মানে— ভদ্র সমাজের রীতি-পদ্ধতি; ভদ্র ব্যবহার। অন্যভাবে বলা যায়: আদব-কায়দা মানে কাঙ্খিত শিক্ষা, সভ্যতা ও মার্জিত সংস্কৃতির দ্বারা আত্মগঠনের অনুশীলন করা।[2] ইবনু হাজার ‘আসকালানী রহ. বলেন: «   الأدب: استعمال ما يحمد قولاً وفعلاً   » . “কথায় ও কাজে প্রশংসনীয় ব্যবহারকে আদব বলে।”[3] আবার কেউ বলেন: «   الأخذ بمكارم الأخلاق   » . “উত্তম চরিত্র লালন করাকে আদব বলে।”[4] আবার কেউ কেউ বলেন: «   هو تعظيم من فوقك والرفق بمن دونك   » . “আদব হলো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিকে সম্মান করা এবং অধস্তনকে স্নেহ করা।”[5] ...