সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

চাচা কাহিনী

রাত বারোটায় প্যারিসে থিয়েটার থেকে বেরিয়ে ভাবলুম যাই কোথায়? হোটেলে? তাও কি হয়! খাস প্যারিসের বাসিন্দা ছাড়া আর তো কেউ কখনো তিনটের আগে শুতে যায় না। আমার এক রুশ বন্ধুকে প্যারিসে সকাল হওয়ার আগে কখনও বাড়ি ফিরতে দেখিনি। রাত তিনটে-চারটের সময় যদি বলতুম, “রবের, চল, বাড়ি যাই” সে বেড়ালছানার মত আমার কোটের আস্তিন আঁকড়ে ধরে বলত, ‘ এই অন্ধকারে? তার চেয়ে ঘণ্টাতিনেক সবুর করো, উজ্জ্বল দিবালোকে প্রশস্ত রাজবর্ত্মা দিয়ে বাড়ি ফিরব। আমি নি নিশাচর, চৌর, না অভিসারিকা? অত সাহস আমার নেই।’ জানতুম মঁ পার্নাস বা আভেন্যু রশোসূয়ারের কোনো একটা কাফেতে তাকে পাবোই। না পেলেও ক্ষতি নেই, একটু কফি খেয়ে, এদিক-ওদিক আঁখ মেরে ‘নিশার প্যারিসের’ হাতখানা চোখের পাতার উপর বুলিয়ে নিয়ে আধা-ঘুমো-আধা-জাগা অবস্থায় হোটেলে ফিরে শুয়ে পড়ব। জুনের রাত্রি। ন-গরম, না-ঠাণ্ডা। প্লাস দ্য লা মাদ্‌লেন দিয়ে থিয়েটারের গানের শেষ রেশের নেশায় এগিয়ে চললুম। গুন্‌ গুন্‌ করছিঃ'তাজা হাওয়া বয়-- খুঁজিয়া দেশের ভুঁই। ও মোর বিদেশী যাদু কোথায় রহিলি তুই?'* ভাবছি রাধারে চেয়ে কৃষনের প্রেম ছিল ঢের বেশি ফিকে। অথচ ত্রিস্তানের প্রেম কি ইজলদের চেয়ে...

বেঁচে থাকো সর্দিকাশি

ভয়ঙ্কর সর্দি হয়েছে। নাক দিয়ে যা জল বেরচ্ছে তা সামলানো রুমালের কর্ম নয়। ডবল সাইজের বিছানার চাদর নিয়ে আগুনের কাছে বসেছি। হাঁচছি আর নাক ঝাড়ছি, নাক ঝাড়ছি, আর হাঁচছি। বিছানার চাদরের অর্ধেকখানা হয়ে এসেছে, এখন বেছে বেছে শুকনো জায়গা বের করতে হচ্ছে। শীতের দেশ, দোর জানালা বন্ধ, কিচ্ছু খোলার উপায় নেই। জানালা খুললে মনে হয় গৌরীশঙ্করের চূড়োটি যেন হিমালয় ত্যাগ করে আমার ঘরে নাক গলাবার তালে আছেন।  জানি, একই রুমালে বার বার নাক ঝাড়লে সর্দি বেড়েই চলে, কিন্তু উপায় কি? দেশে হলে রকে বসে বাইরে গলা বাড়িয়ে দিয়ে সশব্দে নাক ঝাড়তুম, এ নোংরামির হাত থেকে রক্ষা তো পেতুমই, নাকটাও কাপড়ের ঘষায় ছড়ে যেত না।  হঠাৎ মনে পড়ল পরশু দিন এক ডাক্তারের সঙ্গে অপেরাতে আলাপ হয়েছে। ডাকসাঁইটে ডাক্তার-ম্যুনিক শহরে নাম করতে পারাটা চাট্টিখানি কথা নয়। যদিও জানি ডাক্তার করবে কচু, কারণ জর্মন ভাষাতেই প্রবাদ আছে, 'ওষুধ খেলে সর্দি সারে সাত দিনে, না খেলে এক সপ্তায়।'  তবু গেলুম তাঁর বাড়ি। আমার চেহারা দেখেই তিনি বুঝতে পারলেন ব্যাপারটা কি। আমি শুধালুম, 'সর্দির ওষুধ আছে? আপনার প্রথম এবং খুব সম্ভব শেষ ভারতীয় রোগীর একটা ...

ফটোগ্রাফির সহজ ও চমৎকার ২০টি টিপস

১. ক্যামেরা ধরার কৌশল/স্ট্যাবিলাইজার/ট্রাইপড: ক্যামেরা ধরার সময় ক্যামেরার ফিতাটি গলায় কিংবা হাতে পেঁচিয়ে নিন, যাতে আপনার মুল্যবান ক্যামেরাটি অসাবধানতাবসত হাত থেকে পড়ে গেলেও মাটিতে পড়ে না যায়। ছবি তোলার সময় হাত যেনো না কাঁপে সেদিকে খেয়াল রাখুন। হাত শরীরের সাথে লাগিয়ে রাখুন, প্রয়োজনে কোনো কিছুর সাথে হেলান দিয়ে ছবি তুলুন। প্রয়োজনে ট্রাইপড ব্যবহার করুন। হাটতে হাটতে ছবি তুলতে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ২. সাবজেক্টকে খালি চোখে দেখা ফিল করা: ছবি তোলার আগে ছবির বিষয়বস্তু অর্থাৎ সাবজেক্টকে ভালো করে দেখুন। কোন এঙ্গেল থেকে কেমন দেখাচ্ছে? উঁচু থেকে, নিচু থেকে এবং আই লেভেল থেকে। খালি চোখে দেখে আগে বেটার এঙ্গেলটি বাছাই করুন। একটি ছোট শিশুর বেলায় আপনি দাঁড়িয়ে না থেকে নুয়ে ক্যামেরাটি তার আই লেভেলের কাছে নিয়ে যান। আর শিশুদের হাসির ব্যপারটি অবশ্যই খেয়াল করতে হবে। একটি মিষ্টি হাসি আপনার ছবিটিকে বানিয়ে দিবে সেরার সেরা। ৩. ভিউইং অ্যাঙ্গেল পার্সপেক্টিভ: আমরা বেশিরভাগ সময়েই আমাদের আই লেভেল থেকে ছবি তুলে থাকি। আই লেভেল বলতে বোঝায় আমরা যে ভ্যিউ দেখি আমাদের চোখ দিয়ে বা আমাদের...

তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার ৫ কৌশল!

শেখার কোন শেষ নেই, শেখার চেষ্টা বৃথা তাই! বোকারাই এমনটা বিশ্বাস করে। শেখার কোন শেষ নাই তবে চালাক হলে অল্পতেই শেখা যায়! বেশিরভাগ সময়েই আমরা কিভাবে শিখছি তা নিয়ে মাথা ঘামাই না! কারণ অনেকের মতে শেখাটা নাকি প্রাকৃতিক ভাবে হয়ে যায়। যেমন হামাগুড়ি দিতে দিতে হেঁটে ফেলা বা আমতা আমতা করে নামতা শিখে ফেলা। কিন্তু শেখারও অনেক কৌশল আছে। এমনি এমনি না শিখে বুদ্ধি খাটিয়ে শিখুন, সারাজীবন শেখা বিদ্যা কাজে লাগবে! শেখার কোন বয়স বা সময় নেই। সব সময়ই শিখতে পারেন। তার জন্য দরকার পর্যবেক্ষন শক্তি। চারপাশটা দেখুন, মাথা খাটান এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। ব্যাস! অন্যদের চেয়ে বেশি শিখতে পারবেন সেই সাথে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়েও কাজ করতে পারবেন। তবে শুধু শিখেই রাখলেন কাজে না লাগালে শেখার মর্ম থাকলো কোথায়? দ্রুত শেখার ৫ টি ছোট্ট কৌশল নিয়ে আলাপ করা যাক, ভেতরের মানুষটাকে চুপ করিয়ে রাখুন: তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা-সেটা কেউই জানেন না! তাই ভেতরের মানুষটাকে চুপচাপ রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্য কারো কথা যখন শুনছেন তখন শুধুই শ্রোতা থাকুন, পরে একসময় সেটার সাথে নিজের মতামত মিলিয়ে নিতে পারেন। কারন অন্যের কথ...

কুরআন ও হাদিসের আলোকে যাকাতের বিধান!

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন :  وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ ‘তাদের এ মর্মে আদেশ করা হয়েছে যে, তারা নিবিষ্ট মনে একান্তভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর এবাদত করবে, যথাযথভাবে সালাত আদায় করবে, জাকাত প্রদান করবে, আর এটাই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।’ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন : وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضاً حَسَناً وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْراً وَأَعْظَمَ أَجْراً ‘তোমরা যথানিয়মে সালাত আদায় কর, জাকাত প্রদান কর, আল্লাহ তাআলাকে উত্তম ঋণ দাও, আর তোমরা নিজেদের কল্যাণে যা অগ্রে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ প্রতিদান হিসাবে প্রাপ্ত হবে।’ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন : وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِباً لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ ‘তোম...